বাবা জেলে, মা অন্য একজনের সাথে চলে গিয়েছে, নেই ঘরবাড়ি। যার কারনে অসহায় হয়ে পরেছে চার সন্তান। বড় সন্তান বছর দশেকের মাসুম মহম্মদ বাকি তিন ছোট ছোট ভাইদের নিয়ে কখনও রাস্তার ধারে যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে কখনও বা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পেটে নেই খাবার, মাথায় নেই ছাদ এই চার শিশু কিশোরকে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে দেখে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। এই চার খুদের যাতে কোনও বিপদ না হয় সে কারনে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।
রায়গঞ্জ থানার সুভাষগঞ্জ কাটাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা গোলাম রহমান তার স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে গ্রামেই এক বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কিন্তু কোনও এক অপরাধের ঘটনায় দিন সাতেক আগে জেল হয়েছে গোলাম রহমানের। তার স্ত্রী কয়েক মাস আগেই অন্য এক ব্যাক্তির সাথে গোলাম রহমানকে ছেড়ে চলে যায়। বাবা সাজা প্রাপ্ত আসামী জেলে আছে, মা চলে গিয়েছে অন্য লোকের সাথে। এমতাবস্থায় বাড়িওয়ালা বাড়ি থেকে গোলামের চার নাবালক সন্তানদের বের করে দিয়েছেন। এরপর থেকেই মাসুম মহম্মদ ও মাসুদ মহম্মদ সহ আরও দুই ছোট ভাইকে নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় পথে ঘাটে দিন কাটাচ্ছে। কখনও রাস্তার ধারে যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে কখনও আবার স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। ভিক্ষা বৃত্তি করেও চারজনের পেট ভরানো দায় হয়ে গিয়েছে গোলামের বড় সন্তান মাসুম মহম্মদের। আশপাশের লোকজন এক মুঠো খাবার দিলেও তাতে হয়তো বা একজনের পেট ভরে। রায়গঞ্জ সোহারই মোড় এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে এক যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে অসহায় ভাবে চার নাবালককে শুয়ে থাকতে দেখে এলাকার বাসিন্দারা খবর দেন রায়গঞ্জ থানায়। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ এসে চার নাবালককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রতিবেশীদের কথায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় তাদের খাবার ও থাকার কোনও একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে এই হতভাগ্য শিশুদের।
এদিকে সহায় সম্বলহীন গোলামের বড় সন্তান মাসুম মহম্মদ জানায়, তার বাবা জেলে, মা তাদের ছেড়ে চলে গেছে। ফলে তারা রাস্তায় এসেছে। কেউ খাবার দিলে খেতে পায়, না হলে অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হয়।
এই ঘটনায় পিন্টু প্রামাণিক নামে এক এলাকাবাসী জানায়, তারা এই ঘটনাটি দেখতে পান। বাচ্চাদের করুন অবস্থা তাদের ম্নকে নাড়া দেয়। ফলে কোন কোন দিন তারাই খাবার দেয়। কিন্তু তাদের পক্ষে প্রতিদিন খাবার দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে মানবতার খাতিরে এদিন রায়গঞ্জ থানায় খবর দিয়ে শিশু গুলিকে তুলে দেওয়া হয়।